বাজেটে হাইব্রিড গাড়ি, মাইক্রোবাস ও বাংলাদেশে বানানো গাড়ির উপর সম্পূরক শুল্ক বা সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি কমানোর প্রস্তাব করার খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক মানুষ আশাবাদী হয়েছেন কম দামে মাইক্রোবাস, দেশে সংযোজিত গাড়ি ও তেল-সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি কেনার ব্যাপারে।

এখন, অনেকেই ভাবছেন যে দেশের বহুল প্রচলিত হাইব্রিড গাড়িগুলো, যেমন টয়োটা অ্যাকুয়া, এক্সিও/ফিল্ডার হাইব্রিড, প্রিয়াস, নিসান এক্স-ট্রেইল হাইব্রিডের দাম কমবে। কিন্তু এখানেই হয়েছে সমস্যা।প্রস্তাবিত এই বাজেটে হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে কমানো হচ্ছে শুধু ১৮০১ থেকে ৩০০০ সিসির হাইব্রিড গাড়ির উপরে সম্পূরক শুল্ক। অর্থাৎ, ১৫০০ থেকে ১৮০০ সিসির হাইব্রিড গাড়িগুলো, যেমন অ্যাকুয়া, এক্সিও/ফিল্ডার হাইব্রিড, প্রিয়াস, সি-এইচআর, হোন্ডা ভেজেলের কিন্তু দাম কমবে না। এখন আসি আরেকটি বহুল বিক্রিত হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে, যেটি হচ্ছে নিসান এক্স-ট্রেইল হাইব্রিড। ৩২ লাখ টাকা থেকে দাম শুরু হওয়া এই গাড়িটি বাংলাদেশে কতটা সাড়া ফেলেছে তা আমাদের রাস্তায় বের হলেই বুঝা যায়। যাইহোক, কথা হচ্ছে, অনেকেই ভাবছেন যে ২০০০ সিসির ইঞ্জিন থাকার কারণে দাম কমতে যাচ্ছে এক্স-ট্রেইল হাইব্রিডের।

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এক্স-ট্রেইল হাইব্রিডের দাম কমবে না। কেন? কারণ, এবারের এই বাজেটে যেটা করেছে, সম্পূরক শুল্কের হার ২টি ট্যারিফে কমানো হচ্ছে -> একটি হচ্ছে ১৮০১ থেকে ২৫০০ সিসি, আরেকটি হচ্ছে ২৫০১ থেকে ৩০০০ সিসি।

জিনিসটি বুঝিয়ে বলি। আগের ট্যারিফে ১৮০১ থেকে ২০০০ সিসি এসডি ছিলো ৪৫%, এবং ২০০১ থেকে ৩০০০ সিসি এসডি ছিলো ৬০%। কিন্তু এবার যেটা করা হবে, ১৮০১ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত একটা স্লট করে সেটার এসডি হয়ে যাবে আগের ১৮০১-২০০০ সিসি স্লটের সমান, মানে ৪৫%। এর ফলে ২২০০, ২৪০০, ২৫০০ সিসির হাইব্রিড গাড়িগুলো যেমন হ্যারিয়ার হাইব্রিড ও আউটল্যান্ডার প্লাগ-ইন-হাইব্রিডের ডিউটি এবার হবে এক্স-ট্রেইলের একই শতাংশে, কিন্তু ২০০০ সিসির হাইব্রিড গাড়িগুলো যেমন মাজদা এক্সিলা হাইব্রিড ও নিসান এক্স-ট্রেইল হাইব্রিডের শতাংশ কিন্তু আগের জায়গাতেই আছে। তাই এক্স-ট্রেইল হাইব্রিড বা এক্সিলা হাইব্রিডের দাম কমবে না, কিন্তু ওদিকে টয়োটা হ্যারিয়ার হাইব্রিড, মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার পিএইচইভি, লেক্সাস এনএক্স ৩০০এইচ, টয়োটা ক্যামরি ও ক্রাউন হাইব্রিড, টয়োটা সাই ও লেক্সাস এইচএস ২৫০এইচ, লেক্সাস ইএস ৩০০এইচ এই গাড়িগুলোর দাম অনেকটাই কমবে। এবার প্রথমবারের মতো মাইক্রোবাসকে একটি কমার্শিয়াল গাড়ি হিসেবে বিবেচিত করে এই সেগমেন্টেও অনেকটা এসডি ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ০ থেকে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনের যেই নন-হাইব্রিড মাইক্রো আছে, সেগুলোর এসডি (সম্পূরক শুল্ক) ৪৫% থেকে করা হবে ২০%, ও একই সিসি রেঞ্জের হাইব্রিড মাইক্রোবাসগুলো হবে সম্পূর্ণরূপে এসডি-মুক্ত অর্থাৎ ০%। ওদিকে নোয়াহ নন-হাইব্রিডের মতো ১৮০১ থেকে ২০০০ সিসি রেঞ্জের মাইক্রোগুলোর এসডি ৬০% থেকে করা হয়েছে ৪৫%, ও নিসান সেরেনা মাইল্ড-হাইব্রিডের মতো এই সিসি রেঞ্জের হাইব্রিড মাইক্রোর এসডি ৪৫% থেকে ৩০% করা হয়েছে। শেষে আসে ২০০০+ সিসির মাইক্রো যেমন আলফার্ড বা ভেলফায়ারের এসডি ৬০% থেকে করা হয়েছে ৪৫%।তবে হ্যাঁ, এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের ডিউটি কমে যাওয়ার কারণে জাপানের অলরেডি এসব গাড়ি কিনার হিড়িক পড়ে গেছে। এই কারণে জাপানে গাড়ির পারচেজ প্রাইস অলরেডি বেড়ে যাচ্ছে।